"১৯৭১"------ Arif R Hossain

“কোন কথাটি মনে হলে আজও আপনি মনের অজান্তে হেসে উঠেন?”

এমন রহস্য পত্রিকা টাইপ প্রশ্ন এখনও যে কেউ করতে পারে, আমার ধারনাই ছিলো না

তার নেক্সট প্রশ্ন হলো “১ থেকে ১০০র মধ্যে আপনার প্রিয় নম্বর কি?”

কড়া একটা ধমক দিতে যাব এমন সময় মুখ থেকে বের হয়ে আসলো “৭১”

‘আপনে মিয়া একটা আঁতেল’ এরকম একটা রেসপন্স ভেবেছিলাম সাংবাদিকের কাছ থেকে পাবো

কিন্তু তিনি কিছুই বললেন না

আমি বলতে থাকলাম; জানেন, আমি না মাঝে মাঝে কোন নতুন এলাকায় গেলে, ১৯ নম্বর রোডের ৭১ নম্বর বাড়িটা খুঁজি

কি সুন্দর না তার বাড়ির ঠিকানাটা?  ১৯৭১

কাউকে বাড়ির ঠিকানা লিখে দিতেও তো গর্বে তার বুকটা ফুলে উঠার কথা

এরকম একবার মোহাম্মদপুরে একটা বাড়ি পেলাম ১৯ নম্বর রোড, ৭১ নম্বর বাড়ি

আমি গম্ভীর মুখে বাড়িওয়ালাকে বললাম, “বাড়িটা বিক্রি করবেন? আমি কিনতে এসেছি”

ভাগ্যিস উনি দামদর শুরু করেনি

মোহাম্মদপুর থেকে বাসায় রিকশা দিয়ে ফিরলে যে ভাড়া লাগবে, তার থেকেও ৫ টাকা কম তখন আমার পকেটে

সেই অবস্থাতেই ৭ কাঠা জমিসহ এক বাড়ির দরদাম শুরু করে দিয়েছি

সাহস আছে ভাই

একবার এক গাড়ির দোকানে যেয়ে গম্ভীর মুখে বললাম, এই গাড়িটা পছন্দ হয়েছে... কিন্তু আমার গাড়ির নম্বরটা হতে হবে

ঢাকা মেট্রো
১৬-১৯৭১

শো রুমের মালিক বললেন, ‘বস নম্বর তো পরে, আগে গাড়ি পছন্দ করেন’

আমার একফিট দূরত্বে ডান দিকে একটা পাজেরো... আর বাম দিকে একটা মারুতি সুজুকি

আমি দুই গাড়ির উপর হাত রেখেই বললাম, “একটা গাড়ি হলেই হবে... নম্বর এটা দিতে পারবেন নাকি বলেন...”

ছোটবেলায় বুয়েটের ফর্ম আনতে যেয়ে দেখি লাইনে আমার ৭/৮ জন সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আমার এক বন্ধু যে ফর্মটা পেয়েছে তার নম্বর ১৯৫৮

আমি গুনতে থাকলাম, লাইন ব্রেক করে ঠিক কত পিছে যেয়ে দাঁড়ালে আমার হাতে এসে ১৯৭১ নম্বর ফর্মটা থামবে

লাইন থেকে ধাক্কায়ে সবাই আগাতে চায়... আমি চাইলাম পিছাতে

এডজাস্ট করে খুশি খুশি সঠিক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি

ফর্ম হাতে নিয়ে দেখি ফর্ম নম্বর ১৯৯২

আমি বললাম, “এ কি?”

উনি বললেন, ‘এইটারেই বলে ফর্ম ... সামনে বাড়ান’

পিছের জন ধাক্কা না দিলে আমি উনাকে কথা শুনিয়ে দিতাম, “৭১ ভুলে সামনে আগানো যাবে না ব্রাদার”

অনেকের কাছে আঁতেলের মতো লাগবে কথাগুলো... ইদানিং আমারও লাগে

টিভি/রেডিও/টক-শোতে, একাত্তুরের চেতনা চেতনা চেতনা করে এটাকে রীতিমতো পচিয়ে ফেলেছি আমরা

আই ডাউট, কয়জন চেতনার মানেটা বুঝে

বুকে থাবা দিতে দিতে মুখে বড়বড় বুলি আউরাই, ‘চেতনা বুকে ধারন করতে হয়’

“তাইলে মুখে নেস কেন যদি বুকেই ধারন করতে হয়? বুকেই থাকতে দে”

বুক থেকে মুখে এনে আমরা এটাকে পচিয়ে ফেলেছি রীতিমতো

১ থেকে ১০০ এর মধ্যে আপনার প্রিয় নম্বর কি? এর উত্তর মার্চে হয় এক রকম... এপ্রিলে হয় আরেকরকম

মোবাইল ফোনের ওয়েলকাম টোনের মতো ব্যাপার

মাসে বুঝে চেইঞ্জ হয় চেতনা

এই দেশে যেই জন্মগ্রহন করবে বাই-ডিফল্ট তার মাঝে চেতনা থাকতে হবে

আমাদের প্রসেসরে এই ৭১ এর চেতনা বিল্ট-ইন আছে, থাকবে... থেকে যাবে

যতই মুখে বলব, ততই ব্যাপারটা এক্সটারনাল ড্রাইভের মতো শুনাবে... বিল্ট-ইন কনসেপ্টটা হারিয়ে যাবে

ব্যাপারটা কিছুটা, সামনে যাকেই পাই তাকেই ‘হ্যালো ব্রাদার আমি কিন্তু মানুষ’ বলে প্রমান দেয়ার মতো

“আরে তোর কাজ কর্মেই তো দেখা যাচ্ছে তুই হনুমান না”

‘আমার মাঝে কিন্তু একাত্তুরের চেতনা আছে হু’

“আরে ভাই তোর কাজ কর্মেই তো দেখা যাবে তুই অমানুষ না”
আসাদ শাহীন
E-mail:shah33n@chef.net

Post a Comment

[blogger]

MKRdezign

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget