আজকাল আমাদের আড্ডার আসর যেন অপরকে নিয়ে গিবত না করতে পারলে জমেই না। ব্যাপারটা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, গিবত না করতে পারলে আমাদের পেটের ভাত হজম হয় না। গল্পের আসরে সরাসরি তো আর গিবত করা যায় না! একটা সঙ্কোচবোধ থাকা উচিত না! তাই অধিকাংশ গিবতের আসরের সূচনাটা যেভাবে হয়..........:
'যদিও গীবত করা ভালো না, তারপরও একটা সত্য কথা বলি...'। হ্যাঁ, এই কথাটি দিয়েই আমরা গিবত করা শুরু করি। এই কথাটা দিয়ে গিবত জায়েজের বৃথা চেষ্টা আর কি!
আজকের সমাজ এবং আমাদের তারুণ্যের অন্যতম ব্যাধি এই গিবত। ধর্মীয় জ্ঞানের অপ্রতুলতা, সঠিক শিক্ষার অভাবের ফলে আমাদের অধিকাংশ লোক জানেই না এই গিবতের শাস্তি কত ভয়াবহ! আরও দু:খজনক বিষয় হচ্ছে, আমাদের ভেতরে অনেকেই আবার এমনও রয়েছি, যাদের ঠিক জানাও নেই যে, গিবত কাকে বলে!
আমরা অন্য এক ব্যক্তির পেছনে (অনুপস্থিতে) গিবত করার পরে কেউ যদি বলে আমি গিবত করছি এবং এই কাজ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করে। তাহলে আমরা বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথেই বলি যে, 'আমি তো গিবত করছি না। আমি যা বলেছি, এগুলো তো সত্য কথা। তার যে দোষ বর্ণনা করেছি এসব দোষ তো তার আসলেই রয়েছে। তাহলে এসব কথা গিবত হয় কিভাবে?'
এটি বুঝাতে প্রথমেই আমরা #গিবতের_সংজ্ঞা জেনে নেই। যে গিবতটা আসলে কি?
গিবত তো হচ্ছে, কারো বিষয়ে তার পেছনে এমন কথা বলা যা তার সামনে বললে যদি সে কষ্ট পায় যদিও কথাটি সত্য হোক না কেন। সত্য হলে গিবত আর বানিয়ে বললে হবে মিথ্যা অপবাদ, যা গীবতের চেয়েও মারাত্মক। ‘গিবত’ এর অর্থ বিনা প্রয়োজনে কোন ব্যক্তির দোষ অপরের নিকটে উল্লেখ করা। ইবনুল আছীর রহ. বলেনঃ 'গিবত হল কোন মানুষের এমন কিছু বিষয় যা তার অনুপস্থিতিতে উল্লেখ করা, যা সে অপছন্দ করে, যদিও তা তার মধ্যে বিদ্যমান থাকে।'
আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, গিবত কাকে বলে তোমরা জান কি? সাহাবিগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই ভালো জানেন। তিনি বললেন, তোমার কোন ভাই সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে, তাই গিবত। সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি যে দোষের কথা বলি তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে তাহলেও কি গিবত হবে? উত্তরে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যে দোষের কথা বল, তা যদি তোমার ভাইয়ের থাকে তবে তুমি অবশ্যই তার গিবত করলে আর তুমি যা বলছো তা যদি তার মধ্যে না থাকে তবে তুমি তার ওপর মিথ্যা অপবাদ দিয়েছ। (সহিহ মুসলিম)
ইতোমধ্যেই উপরের আলোচনা দ্বারা আমরা বুঝতে পেরেছি যে, মানুষের অজান্তে দোষ বর্ণনার নাম গিবত, যদিও উক্ত দোষ তার মাঝে বর্তমান থাকে। পক্ষান্তরে চোগলখোর ঐ ব্যক্তিকে বলা হয়, যে মানুষের মাঝে ঝগড়া লাগানোর উদ্দেশ্যে একজনের কথা অন্যজনের কাছে বর্ণনা করে। গিবতকারী ও চোগলখোরের মধ্যে পার্থক্য এই যে, চোগলখোরের মধ্যে ঝগড়া লাগানোর ইচ্ছা বিদ্যমান থাকে। আর গিবতকারীর মধ্যে তা থাকে না।
গিবতকারী ও চোগলখোরেরা মানুষের মধ্যে বিচ্ছেদ ও ঝগড়া সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একজনের কথা অন্যজনের কাছে বর্ণনা করে থাকে। মানুষের পারস্পরিক ভালবাসাকে শত্রুতায় পরিণত করে। তারা মানুষের মধ্যে বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক। তাদেরকে দেখা যায়, একজনের কাছে একরকম এবং অন্যজনের কাছে অন্যরকম চেহারা নিয়ে উপস্থিত হচ্ছে। তারা নিজেদের ইচ্ছামত যখন যা খুশী তাই বলে থাকে। কবরের আযাবের অন্যতম কারণ এই চোগলখোরী।
#
আসুন এবার কুরআন ও হাদিসের আলোকে #গিবত_করার_ভয়ঙ্কর_পরিনতি সম্পর্কে জেনে নেই।
ইসলামি শরিয়তে গিবত হারাম ও কবিরা গুনাহ। হাদিসের বর্ণনা, ‘যারা অগ্র-পশ্চাতে অন্যের দোষ বলে বেড়ায়, তাদের জন্য রয়েছে ধ্বংসের দুঃসংবাদ।’ (মুসলিম)।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা অন্যের দোষ খুঁজে বেড়াবে না।’ (সুরা-৪৯ হুজুরাত, আয়াত: ১২)। ‘দুর্ভোগ তাদের জন্য, যারা পশ্চাতে ও সম্মুখে লোকের নিন্দা করে।...অবশ্যই তারা হুতামাতে (জাহান্নামে) নিক্ষিপ্ত হবে। তুমি কি জানো হুতামা কী? তা আল্লাহর প্রজ্বলিত অগ্নি, যা হৃদয়কে গ্রাস করবে। নিশ্চয় বেষ্টন করে রাখবে, দীর্ঘায়িত স্তম্ভসমূহে।’(সুরা-১০৪ হুমাজা, আয়াত: ১-৯)।
ইসলামি দণ্ডবিধিতে যদি কেউ কারও ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে, তাকে ৮০ দোররা (চাবুক) দেওয়া হবে। এরা ফাসিক, পাপী, অপরাধী। শরিয়তের আদালতে এদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।’
মদ্যপান, চুরি, ডাকাতি, ব্যভিচার ইত্যাদি থেকেও মারাত্মক ও নিকৃষ্টতম পাপ ও কবিরা গুনাহ হলো গিবত। অন্যান্য পাপ তওবা দ্বারা মাফ হয়; গিবতকারীর পাপ শুধু তওবা দ্বারা মাফ হয় না, যার গিবত করা হয়েছে, সে ব্যক্তি যদি মাফ করে, তবেই আল্লাহর কাছে মাফ পাওয়া যেতে পারে। একটি কবিরা গুনাহ কাউকে জাহান্নামে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
যখন কেউ আপনার সঙ্গে বসে অন্যের গিবত করে, তখন তাকে থামতে বলুন, আল্লাহর হুকুমের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাবধান করুন। আর তাতেও যদি কাজ না হয়, তবে সেখান থেকে সরে আসুন। মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, ‘পরনিন্দাকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।’ (বুখারি ও মুসলিম)।
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যখন আমাকে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হলো, তখন আমাকে তামার নখবিশিষ্ট একদল লোকের পাশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো। তারা তাদের নখগুলো দিয়ে স্বীয় মুখমণ্ডলে ও বক্ষদেশে আঘাত করে ক্ষতবিক্ষত করছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরাইল! এরা কারা? জিবরাইল (আ.) বললেন, এরা দুনিয়াতে মানুষের গোশত ভক্ষণ করত এবং তাদের মানসম্মান নষ্ট করত। অর্থাৎ তারা মানুষের গিবত ও চোগলখোরি করত।’” (আবু দাউদ)।
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলে করিম (সা.) বলেছেন, দুনিয়াতে যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করবে, অর্থাৎ গিবত করবে, কিয়ামতের দিন গিবতকারী পচা মাংস ভক্ষণ করতে বাধ্য করা হবে। অতঃপর সে অনিচ্ছা সত্ত্বেও চিৎকার করতে করতে তা ভক্ষণ করবে। (বুখারি)।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! গিবত কি জেনার চেয়েও মারাত্মক?’ জবাবে তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ। কারণ, কোনো ব্যক্তি জেনার পর তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন। কিন্তু গিবতকারীকে যার গিবত করা হয়েছে, তিনি মাফ না করলে আল্লাহ মাফ করবেন না।’ (মুসলিম)। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, গিবতের কাফফারা হলো তুমি যার গিবত করেছ, তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করবে। তুমি এভাবে বলবে, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার ও তার গুনাহ মাফ করে দাও।’ (বায়হাকি)।
সংশোধনের জন্য বলতে চাইলে যার বিষয় শুধু তাকেই বলা যাবে, অন্যকে নয়। সমালোচনাকারীকে বিচারের দিনে নিজের নেক আমল দিয়ে এর বিনিময় পরিশোধ করতে হবে। যার সমালোচনা করেছে, তার গুনাহ নিয়ে সমালোচনাকারীকে জাহান্নামে যেতে হবে।
এ প্রসঙ্গে ইমাম আজম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে নিয়ে শিক্ষনীয় সুন্দর একটি ঘটনা বলি,
হযরত সুফিয়ান সাওরী রহ. ছিলেন ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর সমকালীন ব্যক্তিত্ব। উভয়ের দরবারেই দরস বসত। একদিন হযরত সুফিয়ান সাওরী রহ. কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, ইমাম আবু হানিফা রহ. সম্পর্কে আপনি কেমন ধারণা পোষণ করেন? তিনি উত্তর দিলেন, ইমাম আবু হানিফা রহ. তো বড় কৃপণ লোক। লোকটি বলল, আমরা তো শুনেছি, তিনি খুব দানশীল। সুফিয়ান সাওরী রহ. বললেন, তিনি এতো বড় বখিল যে, নিজের নেক আমল কাউকে দিতে চান না, অথচ অন্যের নেক আমল নিজে নিয়ে নেন। সেটা এভাবে যে, মানুষ তাঁর সম্পর্কে সমালোচনা করে, যার ফলে সমালোচকদের নেক আমল তাঁর আমলনামায় চলে যায়। অন্যদিকে তিনি সমালোচনা করেন না এবং সমালোচনা শুনেনও না। এজন্যই বলছি, তিনি পার্থিব দৃষ্টিকোণে খুব দানশীল হলেও আখিরাতের দৃষ্টিকোণে নিতান্তই কৃপণ।
#
আশা করি উপরের লেখা পড়ে আমরা যারা বুঝে না বুঝে গিবত করেছি তাঁরা অনুতপ্ত হবো। এর জন্যে আমরা আল্লাহর নিকট তওবা করবো। পাশাপাশি আমাদের দ্বারা যেন আর গিবত না হয় সেইজন্যে #গিবত_থেকে_মুক্তি_লাভের_করণীয় গুলো জেনে নেই,
এক. আমরা যার গিবত করেছি তার নিকট থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। আর ঐ ব্যক্তি মারা গেলে গর্হিত গিবতের ক্ষতিপুরণ স্বরূপ তার গোনাহ মাফে দোয়া করতে হবে।
দুই. আমরা যার গিবত করেছি তার গোনাহমাফির জন্য দুআ করবো।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নিঃসন্দেহে গিবতের একটি ক্ষতিপূরণ হলো, তুমি যার গিবত বা কুৎসা রটনায় লিপ্ত ছিলে তার জন্য এভাবে দোয়া কর- ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার ও (যার গিবত করা হয়েছে) তার গোনাহ মাফ করে দাও। (মিশকাত)
আশা করা যায়, গিবতকারীর কাছ থেকে ক্ষমা লাভে তাকে না পেলে তার জন্য এভাবে দোয়া করলে হয়ত আল্লাহ তাআলা গিবতকারীকে ক্ষমা করে দিতে পারেন।
তিন. গীবত থেকে বেঁচে থাকতে আমাদের সর্বাবস্থায় অপরের কল্যানকামী হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কেননা, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘দ্বীন হচ্ছে নিছক কল্যাণ কামনা করা।’
চার. নিজের উপরে অপর ভাইকে অগ্রাধিকার দেয়া। সেটা হতে পারে আত্মত্যাগ কিংবা স্বার্থত্যাগ করে। যেমন আল্লাহ তাআ'লা সূরা হাশরের ৯ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেছেন,
‘তারা নিজের ওপর অন্যদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা অনটনের মধ্যে থাকে।’
পাঁচ. অপরের অপরাধকে ক্ষমা করে দিতে হবে। এতে করে তার সমালোচনা বা গিবত করার প্রশ্ন মনে উদয় হবে না। তাই এই মহত গুনে আমাদের গুনান্বিত হতে হবে।
ছয়. মহৎ ব্যক্তিদের জীবনী বেশি বেশি করে অধ্যয়ন করতে হবে। আমাদের সব সময় আল্লাহ তায়ালার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে তিনি যেন অনুগ্রহ করে গিবতের মতো জঘন্য সামাজিক ব্যাধিতে আমাদের নিমজ্জিত হতে না দেন।
সাত. আমাদের জিহবাকে সবসময় সংযত রাখতে হবে। কেননা, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘বান্দা যখন ভোরে নিদ্রা থেকে জাগ্রত হয় তখন শরীরের সব অঙ্গ জিহবার কাছে আরজ করে, তুমি আমাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহর নাফরমানি কাজে পরিচালিত করো না। কেননা, তুমি যদি ঠিক থাক, তবে আমরা সঠিক পথে থাকব। কিন্তু যদি তুমি বাঁকা পথে চলো, তবে আমরাও বাঁকা হয়ে যাব।' (তিরমিজি)
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যত্র বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার জন্য তার জিহবা ও লজ্জাস্থানের জিম্মাদার হবে, আমি তার জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হবো।’ (বুখারি)
#
এবার জেনে নেই,
#যে_ছয়টি_কারণে_গিবত_করা_জায়েজ:
ইমাম নববীর রহমাতুল্লাহি আলাইহির মতে, যদিও গিবত করা হারাম, কোনো কোনো পরিস্থিতিতে গিবত করার অনুমোদন রয়েছে যখন তা কোনো মঙ্গলের জন্য করা হয়ে থাকে। গিবত করার এ ক্ষমতা কেবলমাত্র একটা ন্যায়সঙ্গত ও বৈধ কারণেই প্রদান করা যাবে, অন্যথায় এর অনুমতি দেয়া যাবে না। নিম্নের ছয়টি কারণের যে কোনো একটি কারণ উপস্থিত থাকলে গিবত করা যেতে পারে:
এক. জুলুম থেকে নিজে বাঁচতে, অন্যকে বাঁচাতে জালিমের ব্যাপারে এমন ব্যক্তির কাছে গিবত করতে পারবে, যে একে প্রতিহত করতে পারবে।
দুই. খারাপ কাজ বন্ধ করার জন্য সাহায্য চাইতে এমন ব্যক্তির কাছে গিবত করতে পারবে, যে তা বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে।
তিন. কোনো বিষয় সম্পর্কে ইসলামী বিধান জানতে গিবত করে মূল বিষয় উপস্থাপন করা জায়েজ আছে। যেমন—এ কথা বলা যে অমুক ব্যক্তি আমাকে আঘাত করেছে, আমার জন্য কি তাকে আঘাত করা জায়েজ? ইত্যাদি।
চার. সাধারণ মুসলমানদের ধোঁকা ও প্রতারণা থেকে বাঁচাতে গিবত করা জায়েজ। যেমন—সাক্ষ্য সম্পর্কে, হাদিস ও ইতিহাস বর্ণনাকারী সম্পর্কে, লেখক, বক্তা প্রমুখ সম্পর্কে জনসমক্ষে বলা বৈধ, যাতে মানুষ তার ধোঁকা ও মিথ্যাচার থেকে বাঁচতে পারে।
পাঁচ. প্রকাশ্যে যদি কেউ গর্হিত কাজ করে, তাহলে তার অপকর্ম এমন ব্যক্তির কাছে বর্ণনা করা যায়, যারা এর দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচতে পারে। যেমন—কেউ প্রকাশ্যে মদ খায়, তাহলে মানুষের সামনে তার সম্পর্কে বলা জায়েজ। যেন এমন খারাপ কাজ করতে ভবিষ্যতে কেউ সাহস না করে।
ছয়. কারো পরিচয় প্রকাশ করতে তার গিবত করা যায়, যদি সে এই নামে প্রসিদ্ধ হয়। যেমন—কেউ কানা। তার পরিচয় দেওয়া দরকার। কিন্তু কানা বললেই সবাই চিনে ফেলে। তখন কানা বলা বাহ্যিক দৃষ্টিতে গিবত হলেও এটা বলা বৈধ। এতে গিবতের গুনাহ হবে না। (তাফসিরে রুহুল মাআনি : ১৪/২৪২, সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১২)
এগুলো হচ্ছে সেই ছয়টি অবস্থা যে ক্ষেত্রে গিবত করা জায়েয, যদি তা আলেমগণ যেভাবে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন সেভাবে করা হয়ে থাকে ৷সহীহ হাদীস থেকেও এসব পরিস্থিতে গিবত করার অনুমোদন পাওয়া যায় ৷
#
বক্ষমান নিবন্ধের দীর্ঘ আলোচনা দ্বারা একথা পরিষ্কারভাবে বুঝা গেল যে, গিবত করা গর্হিত একটি অপরাধ এবং এটি সম্পূর্ণ হারাম কাজ। কোনো অবস্থাতেই নিকৃষ্ট এই কাজটিতে যাতে আমরা প্রবৃত্ত না হই সেজন্য সদাসতর্ক থাকা নিতান্ত বাঞ্চনীয়।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাদেরকে গিবত করা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেখানো পদ্ধতিতে নিজের জন্য এবং যার গিবত করা হয়েছে তার জন্য দুআ করে নিজেদের গোনাহমাফির জন্য প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন। (আমিন)
⚫ সম্পাদক: Abdul Kahhar
Post a Comment