পৃথিবীর অজানা তথ্য – কথাটি শুনলেই আমাদের মনে উঁকি দিয়ে উঠে নানা ধরনের রহস্যময় কথা। আর এই পৃথিবী সম্পর্কে আমরা কত কিছুই জানি না। তবে একটি জিনিস সত্য যে, আমরা এসব অজানা তথ্য গুলো জানতে খুবই পছন্দ করি। আর সেই জন্যই আজকের এই পোস্ট এ আমরা জানাবো এই বিশ্বের কিছু অজানা তথ্য। যা অবশ্যই আপনাকে অবাক করবে।
আর প্রায় ৫০০ কোটি বছর পর সূর্য একটি‘রেড জায়ান্ট স্টার’ এ পরিণত হবে। কারণ তখন সূর্যের জালানি গুলো (হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম) শেষ হয়ে যাবে। তখন সূর্য তার চার পাশের অন্য গ্রহ গুলিকেও গ্রাস করবে। সেই হিসেবে পৃথিবীকেও সূর্য গ্রাস করতে পারে। বর্তমানে পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪৫০ কোটি বছর, এর মানে প্রায় আরো এত বছর সময় এখনো বাকী আছে।

পৃথিবীর প্রায় ৯০% ভূমিকম্পই হয় প্রশান্ত মহাসাগর এর একটি এলাকায়। যার কারণে, এই এলাকাটির নাম দেয়া হয়েছে ‘Ring of Fire’।

Ring of Fire অঞ্চল টিতে প্রায় ৪৫২ টি আগ্নেয়গিরি রয়েছে। পৃথিবীর প্রায় ৮১% আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও হয়, এই অঞ্চলে। গত ১১,৭০০ বছরের ভিতর মোট ২৫ টি বড় আকারের ও ভয়ংকর অাগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে, যার মধ্যে ২২ টিই হয়েছে এই Ring of Fire অঞ্চল টিতে।
রঙধনু আসলে বৃত্তাকার, পৃথিবীর আকারের কারণেই আমরা অর্ধ-বৃত্তাকার রঙধনু দেখি।

পৃথিবীতে সব সাগর-মহাসাগর মিলিয়ে যত পানি রয়েছে, তার চেয়ে তিন গুণ বেশি পানি রয়েছে পৃথিবীর ভিতরের অংশে।

প্রতিদিন পৃথিবীর কোথাও না কোথাও ১০ টির ও বেশি আগ্নেয়গিরি তে অগ্ন্যুৎপাতহচ্ছে।

পৃথিবীতে উৎপাদিত অক্সিজেন এর ২০ ভাগই মহাবন আমাজন উৎপাদন করে।

পৃথিবীতে যত বালু কণা আছে, তার ১০,০০০ গুণ নক্ষত্র রয়েছে এই মহাবিশ্বে।

এই পর্যন্ত পড়ে যদি নতুন কিছু তথ্য জানতে পেরেছেন মনে হয়। তাহলে, শেয়ার বাটনে ক্লিক করে শেয়ার করুন। এতে আমরা খুবই উৎসাহ পাই। এবার বাকী টুকু পড়ার পালা।
চিলির আটাকামা মরুভূমি তে কখনোই বৃষ্টিপাত হয় নি। এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে শুকনো জায়গা।

পৃথিবীতে যত ধরণ এর শক্তি দরকার (বিদ্যুৎ, শব্দ ইত্যাদি) তা শুধু সূর্যের আলোর১০,০০০ ভাগের ১ ভাগ কে কাজে লাগাতে পারলেই সারা জীবন এর জন্য আর কিছুরই প্রয়োজন পড়ত না।

চাঁদ যদি আমাদের উপগ্রহ হিসেবে না থাকতো, তাহলে পৃথিবীতে ২৪ ঘন্টার বদলে মাত্র ৬ ঘন্টা দিন থাকতো।

পৃথিবীর সবচেয়ে দক্ষিণের আগ্নেয়গিরি টি অবস্থিত এন্টার্কটিকা মহাদেশে। এই আগ্নেয়গিরি থেকে আগুন বের হয় না, বরং বরফের ক্রিস্টাল বের হয়। এর নাম মাউন্টইরেবাস।

ক্রুবেরা গুহা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীরতম গুহা। এটি প্রায় ২,১৯৭ মিটার বা ৭,২০৮ ফুট গভীর। এটি জর্জিয়ায় অবস্থিত।

পৃথিবীর কেন্দ্রে এতই স্বর্ণ রয়েছে যে তা দিয়ে পুরো পৃথিবীকে একবার ১.৫ ফুট এর আস্তরণে মুড়ে দেয়া যাবে।
পৃথিবীতে প্রায় প্রতি বছর ৫,০০,০০০ এর মতভূমিকম্প হয়। যার মধ্যে আমরা ১,০০,০০০বুঝতে পারি। এবং মাত্র ১০০ টি ভূমিকম্প পৃথিবীর ক্ষতি করে।
পৃথিবীকে যদি একটি গাড়ি হিসেবে ধরেন, তাহলে ওই গাড়ির যাত্রি হিসেবে আমরা প্রায়৬৬,০০০ মাইল/ঘন্টা বেগে সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছি। এর মানে সূর্যকে কেন্দ্র করে, পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি ঘন্টায় প্রায় ৬৬,০০০ মাইল বা ১,০৭,০০০ কিমি। মাধ্যাকর্ষণ এর কারণেই এই গতি সত্ত্বেও আমরা মহাশূন্যে ছিটকে পড়ি না।

পৃথিবীকে ঘিরে প্রায় ২২,০০০ এর মত মনুষ্যসৃষ্ট বস্তু ঘুরছে। এর মধ্যে বিভিন্ন কৃত্রিম উপগ্রহই সংখ্যায় বেশি।

রাশিয়ানরা পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে গভীরতম গর্তটি করেছে। যার গভীরতা প্রায় ১২,২৬২ মি. বা ৪০,২৩০ ফুট। এটি করতে ১৪ বছর সময় লেগেছে। এটি মাউন্ট এভারেস্ট এর উচ্চতার চেয়েও বেশি গভীর। তবে এটি বর্তমানে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

মাত্র গত ৪০ বছরে পৃথিবীর প্রায় ৪০% বন্য প্রাণী ধ্বংস হয়ে গেছে। যার জন্য আমরা মানুষরাই দায়ী।
এই সৌরজগৎ এ পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ যেখানে পানি মোট তিনটি (কঠিন, তরল, বায়বীয়) অবস্থাতেই থাকতে পারে।
পৃথিবীতে প্রতি দিন গড়ে প্রায় ৮.৬ মিলিয়নবার বিদ্যুৎ চমকায়। এর মানে প্রতি সেকেন্ড এ প্রায় ১০০ বারেরও বেশি বিদ্যুৎ চমকায়।

পৃথিবীর কেন্দ্র এতই গরম যে এর তাপমাত্রা প্রায় সূর্যের তাপমাত্রার সমান।
প্রথম দিকে পৃথিবী বড়-বড় মাশরুম এ ঢাকা ছিল। তখন পৃথিবী তে গাছ ছিলনা।
এক চা চামচ মাটিতে যে পরিমাণ অণুজীবরয়েছে, তার পরিমাণ পৃথিবীর বর্তমান জনসংখ্যা থেকে বেশি।
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড লাগে।
পৃথিবীর মাঝ বরাবর যদি গর্ত করে আপনাকে এক প্রান্ত থেকে ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে আরেক প্রান্তে যেতে আপনার মাত্র৪২ মিনিট লাগবে।
পৃথিবীতে মাত্র ৩% পানি পান করার যোগ্য। আর বাকী ৯৭% পানিই লবণাক্ত। আর ওই ৩% পানির মধ্যেও ২% ই বরফ। আর মাত্র১% পানি সাধারণ ভাবে আমরা খাওয়ার জন্য পাই।
পৃথিবী তার নিজের অক্ষের উপর আনুমানিক৬৬ ডিগ্রী হেলে আছে। আর ঋতু পরিবর্তনের জন্য এই হেলে থাকাই দায়ী।

পৃথিবী আসলে পুরোপুরি গোল নয়। এটিবিষুবীয় অঞ্চল বরাবর হালকা অসমান। এর কারণ হল পৃথিবীর ঘূর্ণন।পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘুরতে সময় নেয় ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড। যার মানে আমরা ২৪ ঘন্টা বলতে যে ১ দিন হিসেব করি তা কিন্তু পুরোপুরি ঠিক নয়।
শুধুমাত্র বুধ (Mercury), শুক্র (Venus),মঙ্গল (Mars), বৃহস্পতি (Jupiter) ও শনি(Saturn) গ্রহ গুলোর নাম প্রাচীন কালেই দেয়া হয়। কারণ সেগুলো তখন খালি চোখে দেখা যেত।

পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ যার নাম (Earth) কোন রোমান দেব/দেবীর নামে ঠিক করা হয় নি। বাকী ৭ টি গ্রহই রোমান দেব/দেবীর নামে।
পৃথিবী আসলে একটি বড় চুম্বক। এর কারণ পৃথিবীর কেন্দ্রে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ লোহা ও নিকেল। এর কারণে পৃথিবীর চার পাশে তৈরি হয়েছে একটি শক্তিশালী চুম্বক ক্ষেত্র। আর এটি আমাদের পৃথিবীকে সৌর ঝড়থেকে রক্ষা করে।
একসময় মানুষ ভাবতো পৃথিবীই এইমহাবিশ্বের কেন্দ্র বিন্দু। কিন্তু এই মহাবিশ্বের কেন্দ্র বলতে কিছুই নেই। সব কিছুই, অন্য কোন কিছু কে ঘিরে ঘুরছে।
পৃথিবীর নিজের অক্ষের উপর ঘুরার গতি ক্রমশই কমে আসছে। আর এটি পৃথিবী তে দিনের দৈর্ঘ্য এর উপর প্রভাব ফেলছে। এর ফলে, প্রতি ১০০ বছরে প্রায় ১৭ মিলি সেকেন্ড করে সময় বাড়ছে। এর মানে আরো ১৪০ মিলিয়ন বছর পর, পৃথিবী তে ২৫ ঘন্টায় এক দিন হবে।
Post a Comment