▫️পরিবারের পেছনে যেই খরচ করবেন, সেটা সাদাকাহ হিসেবে গন্য। কিন্তু সকল সাদাকাহ আপনাকে সোওয়াব দিবে না, কিছু কিছু দান আপনাকে জাহান্নামে পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে!
এসবের মধ্যে অন্যতম হলো -
◉ মাজারে গেলে সোওয়াব হবে এই উদ্দেশ্যে যাওয়া,
◉ মাজারে কোন কিছু প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে দান করা।
কবর বা মাজার যে নামেই আপনি ডাকুন, সেখানে যাবেন মৃত্যুর কথা স্মরণ করার জন্য, নিজের পরকাল নিয়ে ভাবার জন্যে, কিন্তু আপনি যদি ভাবেন সোওয়াব হবে তাহলে সেটা কখনো ইসলাম সমর্থন করে না!
আপনি যখন মাজারে দান করলেন কোন কিছু প্রাপ্তির আশায়, সাথে সাথে আপনি শিরকের খাতায় নিজের নাম লিখালেন!
▪️আল্লাহ্ তা‘আলা ঘোষণা করেছেনঃ ‘‘আপনি (হে নাবী!) নিশ্চিতই মৃতদের (কোন কথা) শোনাতে পারেন না’’- (আন্-নামালঃ ৮০)।
▪️নাবী ﷺ -এর মৃত্যু পীড়া শুরু হলে তিনি তাঁর একটা চাদরে নিজ মুখমন্ডল আবৃত করতে লাগলেন। যখন শ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম হলো, তখন মুখ হতে চাদর সরিয়ে দিলেন। এমতাবস্থায় তিনি বললেনঃ ইয়াহুদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ, তারা তাদের নাবীদের (নবীদের) কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে। (এ বলে) তারা যে (বিদ‘আতী) কার্যকলাপ করত তা হতে তিনি সতর্ক করেছিলেন। (সহীহ্ বুখারী:৪৩৫)
▪️রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমরা আমার কবরকে উৎসব কেন্দ্রে পরিণত করো না (যেমন কবর-পূজারীরা উরস ইত্যাদির মেলা লাগিয়ে ক’রে থাকে)। তোমরা আমার প্রতি দরূদ পেশ কর। কারণ, তোমরা যেখানেই থাক, তোমাদের পেশকৃত দরূদ আমার কাছে পৌঁছে যায়। (হাদিস সম্ভার:১৬৯৬)
▪️কায়স ইবনু সা‘দ (রাঃ) একদা আল্লাহর রাসূল ﷺ কে সম্মান জানাতে সিজদাহ দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করলেন, আল্লাহর রাসূল ﷺ বললেন, আমার মৃত্যুর পরে তুমি আমার কবরের সম্মুখ দিয়ে গমনকালে কবরকে সিজদা করবে? উত্তরে আমি বললাম, (নিশ্চয়) না। তিনি ﷺ বললেন, না, (কস্মিনকালেও) করো না। (মিশকাত:৩২৬৬)
▪️সাবধান! তোমাদের আগে যারা ছিল তারা তাদের নাবী ও বুজুর্গ লোকেদের কবরকে মাসজিদে পরিণত করেছে। সাবধান! তোমরা কবরসমূহকে মাসজিদে পরিণত করো না। আমি তোমাদেরকে এ কাজ হতে নিশ্চিতভাবে নিষেধ করছি। (সহীহ মুসলিম:৫৩২, মিশকাত:৭১৩)
কবরস্থানে ঘুরে আসুন, নিজের মৃত্যুর কথা স্মরণ করে দুনিয়ার জীবন পরিচালনা করুন; কিন্তু ভুলেও কবরে শায়িত ব্যক্তির নিকট কিছু চাইবেন না, এতে করে শিরক এজন্যই হয় যে আল্লাহ তা'য়ালা ব্যতীত কেউ কোন কিছুই দিতে পারে না অথচ আপনি মৃত ব্যক্তির নিকট কিছু চাইছেন!
Post a Comment